ছাত্র কল্যাণ পরিষদ

উত্তরমুলাইম মল্লিকসরাই ফাজিল মাদ্রাসা

গঠনতন্ত্র

পরিষদ পরিচালনার মূল কাঠামো ও বিধিমালা। নিচের ধারা-উপধারা ডেমো কনটেন্ট।

ধারা-০১ নাম ও ঠিকানা

সংগঠনের নাম "ছাত্র কল্যাণ পরিষদ” উত্তর মুলাইম মল্লিকসরাই ফাযিল মাদ্রাসা। একাটুনা, মৌলভীবাজার সদর, মৌলভীবাজার-৩২০০

ধারা-০২ কার্যালয়

পরিষদের প্রধান কার্যালয় উত্তর মুলাইম মল্লিকসরাই ফাযিল মাদ্রাসা ক্যাম্পাস অবস্থিত হবে।

ধারা-০৩ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

ক. ছাত্রদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। খ. শিক্ষা ও নৈতিকতার উন্নয়ন সাধন করা। গ. শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও সময়ানুবর্তিতা বৃদ্ধি করা। ঘ. দরিদ্র, অসুস্থ ও অসহায় ছাত্রদের সহযোগিতা করা। ঙ. খেলাধুলা, সাহিত্য ও সৃজনশীল কার্যক্রমে উৎসাহ প্রদান। চ. শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। ছ. ইসলামী আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা।

ধারা-০৪ পরিকল্পনা

ক. শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধা বিকাশের লক্ষ্যে লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করা। খ. বিজ্ঞানাগার প্রতিষ্ঠা করা। গ. কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্টা করা। ঘ. ভাষাশিক্ষা (ইংরেজি, আরবী, উর্দু) কোর্স প্রতিষ্টা। ঙ. বার্ষিক ম্যাগাজিন, ডায়েরী, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি বের করা। চ. মাদ্রাসার শতভাগ ফলাফল নিশ্চিত করণে এবং A+ অর্জনে মূদ্রাসার শিক্ষকদের সাথে আলোচনা পূর্বক সার্বিক ব্যবস্থায় সহযোগিতা করা।

ধারা-৫সদস্যপদ

ক. মাদ্রাসার প্রাক্তন ও নিয়মিত ছাত্রগণ সদস্য হতে পারবেন। খ. সৎচরিত্র, শৃঙ্খলাবোধ ও দায়িত্বশীলতা সদস্যপদের জন্য বিবেচিত হবে। গ. কোনো সদস্য প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ভঙ্গ করলে তার সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল করা যেতে পারে। ঘ. সকল সদস্যের সমান অধিকার থাকবে।

ধারা-০৬উপদেষ্টা পরিষদ

পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে উপদেষ্টা নির্বাচিত হবেন এবং উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ধারা-০৭ পরিষদের কাঠামো

পরিষদে নিম্নলিখিত পদসমূহ থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সম্পাদক সর্বোচ্চ ৫০ জন সদস্যের পরিষদ গঠন করা যাবে।

ধারা-০৮দায়িত্ব ও কর্তব্য

সভাপতি: পরিষদের সকল কার্যক্রম তদারকি করবেন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন। সভার সিদ্ধান্ত শুনাবেন। সভায় আহ্বান করবেন। সাধারণ সম্পাদক: পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। সভার নোটিশ ও কার্যবিবরণী সংরক্ষণ করবেন। সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভায় সভাপতিত্ব করবেন। সভাপতির অনুমতিক্রমে সভায় আহ্বান করতে পারবেন। অর্থ সম্পাদক: তহবিলের হিসাব সংরক্ষণ করবেন। আয়-ব্যয়ের রিপোর্ট উপস্থাপন করবেন। চাঁদা আদায়ের জন্য প্রত্যেক সদস্যকে নোটিশ প্রেরণ করবেন। অন্যান্য সম্পাদক: নিজ নিজ বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

ধারা-০৯মেয়াদকাল

পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ ১ বছর হবে।

ধারা-১০সদস্য নির্বাচন

ক. প্রধান উপদেষ্টা ৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করবেন। প্রধান উপদ্তাসহ ৫ সদস্যের কমিটি যাকে মনোনীত করবেন, তিনি সভাপতি ও সেক্রেটারি হবেন। খ. সভাপতি, সেক্রেটারিসহ উপদেষ্টামণ্ডলীর সম্মতির ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। গ. প্রতি বছর এপ্রিলের ১ তারিখ হতে ১০ তারিখের মধ্যে কমিটি ঘোষণা করতে হবে। ঘ. নতুন নির্বাচনে সভাপতি পরিবর্তন হলে সদস্য বিদায়ী সভাপতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন।

ধারা-১১সভায় আহ্বান

ক. প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। খ. জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ সভা আহ্বান করা যাবে। গ. সভার সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হবে। ঘ. কোনো সদস্য একাধারে ২ মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকলে এবং অনুপস্থিতির যথাযথ কারণ উল্লেখ করতে না পারলে সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হবে।

ধারা-১২তহবিল

ক. পরিষদের অর্থ সংরক্ষণের জন্য পরিষদের নামে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট খোলা হবে। খ. সম্পাদকবৃন্দ মাসিক অর্থ কালেকশন করে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা দেবেন। গ. অ্যাকাউন্ট হোল্ডার থাকবেন ৩ জন; এর মধ্যে ২ জনের সাইনে টাকা উত্তোলন হবে। ঘ. প্রতি কার্যকরী সভায় অর্থ সম্পাদক আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করবেন। ঙ. প্রতি বছর বিজ্ঞ অ্যাকাউন্ট্যান্টের মাধ্যমে অডিট করতে হবে।

ধারা-১৩অর্থ সংরক্ষণ ও জবাবদিহিতা

ক. দরিদ্র ছাত্রদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান। খ. অসুস্থ ছাত্রদের সহায়তা। গ. পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা। ঘ. বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম। ঙ. ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন। চ. কোনো কারণে পরিষদ বিলুপ্ত হলে অবশিষ্ট অর্থ ছাত্রদের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।

ধারা-১৪সংরক্ষণ কার্যক্রম / সদস্যদের আচরণ

ক. সকল সদস্যকে পরিষদের নিয়ম মেনে চলতে হবে। খ. অসদাচরণ, মিথ্যাচার বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। গ. প্রয়োজনে সতর্কীকরণ, সাময়িক বহিষ্কার বা স্থায়ী বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। ঘ. প্রত্যেক সদস্য বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা ও ছোটদের প্রতি স্নেহশীল হতে হবে।

ধারা-১৫শৃঙ্খলা

ক. অপরাধের সংজ্ঞা: কোনো সাধারণ সদস্য বা কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো পদধারী ব্যক্তি যদি এই অনুমোদিত গঠনতন্ত্রের কোনো ধারা, উপধারা বা নিয়ম অমান্য করেন অথবা সংগঠনের আদর্শ পরিপন্থী কোনো কাজে লিপ্ত হন, তবে তা “গুরুতর সাংগঠনিক অপরাধ” এবং “গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন” হিসেবে গণ্য হবে। খ. শাস্তির রূপরেখা: উক্ত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা কমিটির যৌথ সিদ্ধান্ত মোতাবেক অপরাধী ব্যক্তির বর্তমান সাংগঠনিক পদ সাময়িক/স্থায়ীভাবে স্থগিত এবং সাধারণ সদস্যপদ আজীবনের জন্য গঠনতন্ত্র অমান্যকরণ ও শাস্তির আওতায় আনা যেতে পারে।

ধারা-১৬বিধান

ক. বিধান বাতিল করা হতে পারে। গ. আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ (Right to Defend): সরাসরি কারো মৌখিক বা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই তাৎক্ষণিকভাবে কারো পদ বা সদস্যপদ বাতিল করা যাবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ (পনেরো) কার্যদিবস সময় পাবেন। ঘ. তদন্ত ও প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা: অভিযোগ আসার পর একটি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। উক্ত তদন্ত কমিটির নিকট নিরপেক্ষ তদন্তে যতক্ষণ না আনীত অভিযোগ তথ্য-প্রমাণসহ শতভাগ প্রমাণিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।

ধারা-১৭সংগঠনের প্রকৃতি

সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত শিক্ষার্থী বান্ধব সংগঠন। গঠনতন্ত্রের যেকোনো ধারা দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে সংশোধন ও সংযোজন করা যাবে।

ধারা-১৮সংশোধনী

বিশেষ প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিষদ বিলুপ্ত করা যেতে পারে।

ধারা-১৯বিলুপ্তি

বিশেষ প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিষদ বিলুপ্ত করা যেতে পারে।